Branding & Marketing

মার্কেটিং মানেই ব্র্যান্ডিং নয়

এই তো সেদিন, ৭ বছরের ছোট্ট তুলি আইসক্রিম খাবে বলে কান্নাকাটি করছিলো।

তা দেখে তুলির মামা তুলিকে জিজ্ঞেস করলো “কি আইস্ক্রিম খাবে বলো?” সে কান্না করতে করতে বললো, “ইগলু খাবো।” আর তখনই তার মামা কাছের একটি দোকান থেকে তাকে ইগলু আইস্ক্রিম কিনে দিলো। বাজারে অন্য অনেক আইস্ক্রিমের ব্র্যান্ড আছে। নাম বললে আপনি হয়তো ২-১টা চিনতে পারবেন। কিন্তু, বাকি যেগুলো আপনি চিনতে পারবেন না সেসব ব্রান্ডের কি হবে?
এই চেনা না চেনায় আপনার-আমার হয়তো কিছু যায় আসে না।তবে, আইস্ক্রিম বিক্রেতা বা উক্ত ব্রান্ডের মালিকের জন্য এটি মোটেও ভালো খবর নয়। তাদের জন্য কেনো এটি দুশ্চিন্তার? আশা করি সে ব্যাপারে না বললেও আপনি বুঝে ফেলবেন।আপনাকে যদি বলা হয় “বিকাশ”। তাহলে আপনার মাথায় প্রথমেই কি আসবে?অবশ্যই গাঢ় গোলাপি, এরপর পাখির মত লোগো, ইত্যাদি।“নগদ” বললেই ভেসে উঠবে “সুলাইমান সুখন” এর কথা।

ঠিক তেমনই, ক্রেতার অবচেতন মনে আপনার পণ্য বা সেবাটির একটি প্রতিচ্ছবি জাগিয়ে তোলাই হলো ব্র্যান্ডিং। অপরদিকে, “আমার প্রোডাক্ট ১০ টাকা, নিয়ে যান, এটা অনেক ভালো, উন্নত মান” এগুলো হচ্ছে মার্কেটিং।মার্কেটিং এর সাথে ব্র্যান্ডিং-এর সম্পৃক্ততা অনন্য। তবে বিষয় দুটি ভিন্ন।

বিজ্ঞাপনে সুন্দর মোড়ক, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে ক্রেতার মনে আপনার পণ্যের জন্য একটি স্থায়ী যায়গা তৈরি করা যায়। আর ব্রান্ডিং-এর ক্ষেত্রে এসবের চেয়ে ভালো কোনো পদ্ধতি নেই।যখন মানুষের মুখে-মুখে আপনার পণ্যের সুনাম বা দুর্নাম শুনবেন, তখনই কেবল বুঝতে পারবেন যে, বাজারে আপনার পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু।আমাদের দেশের বড় বড় কোম্পানী গুলো এক সময় অনেক ছোটই ছিলো।

তারা তাদেরব্র্যান্ডিং এ মনোযোগী ছিলো। তাদের প্রসার এর জন্য ছিলো ভালো বাজেট। কারণ, তারা জানতো যে ব্র্যান্ডিংই কেবল ব্যবসাকে স্থায়ী করতে পারে। যা অন্য কিছু দ্বারা হয়না।এটাই তন্ত্র, এটাই মন্ত্র!শুনুন; আগে নিজের ব্যবসাকে ভালোমত বুঝুন। আগামী ২ বছর পর আপনার ব্যবসার স্থান কোথায় হওয়া উচিৎ তা নিরূপণ করুন। নইলে ভবিষ্যতে ”এই করবো”, “ঐ হয়ে যাবো” এগুলো বলে কোনো লাভ হবেনা।প্রফেশনালিজম এক যায়গায় আর হুজুগে ব্যবসার ভবিষ্যত অন্য যায়গায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *